মেনু নির্বাচন করুন

নিশিন্দারা ইউনিয়নের উদ্যোগে সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

নিশিন্দারা ইউনিয়নের উদ্যোগে সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

 

০৩ নিশিন্দারা ইউনিয়নের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন

এর মধ্যে একটির নাম আব্দুল মজিদ নৃত্য গোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন

মোঃ সজল রহমান নৃত্য গুরু এই প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক সম্পাদক

 

মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার

উগান্ডায় ইসলামী শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত কুরআন স্কুলসমূহ বার বার বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সেখানকার সরকারের এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে উগান্ডার মুসলমানরা। তাদের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধের অজুহাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মকে টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে। উগান্ডায় প্রতিষ্ঠিত কুরআন স্কুলগুলোর প্রধান হলেন শেখ ইয়াহইয়া লুকাগো। তিনি ত্রিপোলী পোস্টকে বলেন, আমাদের এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের পবিত্র কুরআন এবং উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠন শিক্ষা দেয়া। তাদের মধ্যে সততার গুণাবলী সৃষ্টি, অপরাধ ও দুর্নীতি পরিহার করাসহ সকল ধরনের অনাচার থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের পবিত্র কুরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখতে অথবা তা থেকে বিরত রাখতে আমরা পারি না। এটা ইসলামের সাথে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।

জনাব শেখ ইয়াহইয়া লুকাগো কুরআন শিক্ষা স্কুলগুলোর যে সুমহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, এগুলো এতই সার্বজনীন যে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ভাষা-অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষ, সকল প্রজন্মের জন্যে এই সার্বজনীন মহৎ গুণাবলী অত্যাবশ্যক। অতীতে একসময় প্রত্যেক সমাজের শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যই থাকতো মানবীয় সদগুণাবলীর বিকাশ সাধন। যদ্দরুন শিক্ষিত অশিক্ষিত লোকদের গুণগত পার্থক্য এমনিতেই ফুটে উঠতো। বলাবাহুল্য, উল্লেখিত নৈতিক গুণাবলী এমন যে, কোনো অমুসলিম সমাজও অনুসরণ করলে তার  কল্যাণকারিতার সুফল স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তারপরও এর বিরোধিতা ইসলামবিদ্বেষেরই অভিব্যক্তি।

বিশ্ব মানবতার ইহ ও পরকালীন মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যেই মহান আল্লাহ তাঁর শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)’র মাধ্যমে গোটা মানবজাতির চিরন্তন জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু এ সম্পর্কে নানান অজ্ঞতা, হিংসা-বিদ্বেষ ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টির দরুন এক শ্রেণীর লোক চিরকালই এর বিরোধিতায় ছায়ার মতো তার পেছনে লেগে আছে।  বিশেষ করে যারা পাশ্চাত্যের বস্তু ও ভোগবাদী জীবন-দর্শন ও জীবনবোধের কারণে মৃত্যু পরজীবনে মহা¯্রষ্টার সমীপে নিজ সকল কর্মকা-ের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না, তারা চিরকালই ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে সক্রিয়। ইসলামের বিরুদ্ধে সকল সময়, সকল যুগেই তারা মানব জাতির নিরপেক্ষ মানুষদেরকে এ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যে ইসলামের দুর্নাম ছড়িয়ে আসছে। বিশেষ করে কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের আসনে যাতে এই খোদায়ী জীবনব্যবস্থা শক্ত আসনে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে এ জন্যে এর দুশমনরা ইসলাম ও এর নিষ্ঠাবান অনুসারীদেরকে অপর সাধারণ মানুষের কাছে হেয় করার জন্যে কখনও জঙ্গি, কখনও সন্ত্রাসী বা তাদের প্রত্যাখ্যাত ধর্মীয় নেতাদের অনুরূপ মৌলবাদী প্রগতি পরিপন্থী ইত্যাদি শব্দাবলী ব্যবহার করে আসছে। তাদের এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা কোনো কোনো মুসলিম দেশের কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাবঞ্চিত প্রজন্মকেও বিভ্রান্ত করে চলেছে। ইসলাম যে প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বুঝায় তা নয়, বরং সকল মানুষের জন্যেই একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা মানুষকে এ কথাটি বুঝবার তারা সুযোগ দিতে চায় না। তা হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক একচ্ছত্র আধিপত্য ক্ষুণœ হবে, এটা তাদের ভয়। সেই ভয়-আশঙ্কা থেকেই সম্প্রতি যে দেশেই ইসলামী শিক্ষা মূল্যবোধের প্রসার ঘটতে দেখে সেখানেই ইসলাম বিরোধিতায় একশ্রেণীর লোক তৎপর হয়ে ওঠে। অথচ আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ সংস্থা জাতিসংঘ সনদে সারা বিশ্বের  সকল দেশ স্বাক্ষরদানের মধ্য দিয়ে একথা স্বীকার করে এসেছে যে, প্রত্যেক জাতি সংখ্যাগুরু বা লঘু সর্বাবস্থায় নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকারী থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো দেশই নিজ দেশের সংখ্যালঘু হোক কি সংখ্যাগুরু মানুষদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তবু এ ব্যাপারে আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার নানাভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘসহ সব দেশের দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


Share with :

Facebook Twitter